জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় জনবল কাঠামো; বেতন বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ
সারাদেশের মসজিদসমূহের জনবল কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি গেজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এই নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ কমিটি আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব মতবিনিময়সভায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই নীতিমালার ফলে দেশের কয়েক লক্ষ ধর্মীয় সেবকের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পদভিত্তিক গ্রেডসমূহ:
নীতিমালায় মসজিদের পদমর্যাদা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের নিম্নোক্ত গ্রেডগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে:
| পদের নাম | নির্ধারিত গ্রেড |
| সিনিয়র পেশ ইমাম | ৫ম গ্রেড |
| পেশ ইমাম | ৬ষ্ঠ গ্রেড |
| ইমাম | ৯ম গ্রেড |
| প্রধান মুয়াজ্জিন | ১০ম গ্রেড |
| সাধারণ মুয়াজ্জিন | ১১তম গ্রেড |
| প্রধান খাদিম | ১৫তম গ্রেড |
| সাধারণ খাদিম | ১৬তম গ্রেড |
| নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী | ২০তম গ্রেড |
নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
- খতিবের সম্মানী: খতিবদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট গ্রেড রাখা হয়নি; তাদের বেতন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সাথে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে নির্ধারিত হবে।
- অসচ্ছল মসজিদের জন্য শিথিলতা: পাঞ্জেগানা বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল মসজিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির সামর্থ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
- আলেমদের অংশগ্রহণ: নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেমদের সমন্বয়ে একাধিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
- লক্ষ্য: এই জনবল কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো দেশের মসজিদগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ইমামদের সম্মানজনক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা দেওয়া।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান:
বিগত কয়েক দশক ধরে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সরকারি স্বীকৃতি ও বেতন বৈষম্য দূর করার পথ সুগম হলো। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নিবন্ধিত মসজিদের জনবল এই কাঠামোর আওতায় আসবে।















