হংকংয়ে তিয়ানানমেন হত্যাকাণ্ড স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি আয়োজনের সঙ্গে জড়িত তিন গণতন্ত্রপন্থী কর্মীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার হংকং হাইকোর্টে শুরু হওয়া এই মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত তিনজন হলেন চৌ হাং তুং, আলবার্ট হো ও লি চিউক ইয়ান। তারা সবাই একসময় তিয়ানানমেন হত্যাকাণ্ড স্মরণে কর্মসূচি আয়োজনকারী সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে প্রবেশের সময় লি চিউক ইয়ান সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। আলবার্ট হো শান্তভাবে বসে থাকেন এবং চৌ হাং তুং রাতভর ঠান্ডার মধ্যে অপেক্ষা করা সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। শুনানি শুরুর কিছুক্ষণ পর লি ও চৌ নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, তবে আলবার্ট হো দোষ স্বীকার করেন।
শুনানিকে ঘিরে আদালতের জনসাধারণের গ্যালারিতে প্রবেশের জন্য প্রায় সত্তর জন মানুষ সকালে লাইনে দাঁড়ান। আদালত প্রাঙ্গণে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য।
একসময় প্রতি বছর চার জুন তিয়ানানমেন স্কয়ারে চীনা সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের শিকারদের স্মরণে হংকংয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতো। তবে দুই হাজার কুড়ি সাল থেকে এসব আয়োজন নিষিদ্ধ রয়েছে। ওই বছরই ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পর হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে বেইজিং।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মামলা জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ভিন্নমত দমন এবং ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক সারাহ ব্রুকস বলেন, এই বিচার মূলত তিয়ানানমেন হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি ধারণকারীদের শাস্তি দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।
চীনা মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্কের গবেষণা ও প্রচার সমন্বয়কারী অ্যাঞ্জেলি ডাট এই বিচারকে প্রহসন বলে অভিহিত করে সব অভিযোগ প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
চীনের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন হংকংয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। মামলাটির শুনানি তিনজন মনোনীত বিচারকের বেঞ্চে চলবে এবং তা প্রায় পঁচাত্তর দিন স্থায়ী হতে পারে। প্রসিকিউশনের পক্ষে সংগঠনের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমসংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
এই মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন গত মাসে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের দণ্ডাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। হংকংয়ের প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি বলেন, আদালত কেবল আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়, রাজনীতির বিবেচনায় নয়।
উল্লেখ্য, তিয়ানানমেন হত্যাকাণ্ড স্মরণে আন্দোলন সমর্থনকারী সংগঠনটি গঠিত হয় উনিশশো ঊননব্বই সালে। পরবর্তী তিন দশক ধরে তারা চীনে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই বিচার সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















