ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিতে খালি হাতে প্রত্যাবর্তন; বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে বিমানবন্দরে অবতরণ
‘আমেরিকান ড্রিম’ বা উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিককে কঠোর অভিবাসন নীতির মুখে দেশে ফিরতে হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেরত আসা এই ৩৬ জনের মধ্যে ২১ জনই নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। এছাড়া ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নাগরিক রয়েছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি ও রুট ম্যাপ:
- ব্যয়বহুল যাত্রা: ফেরত আসাদের মধ্যে অনেকেই বসতভিটা ও গয়না বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন। নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম ৮০ লাখ এবং রিয়াদুল ইসলাম ৫০ লাখ টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত বিফল হন।
- বিপজ্জনক রুট: অধিকাংশ কর্মী প্রথমে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। সেখান থেকে দালালদের সহায়তায় মেক্সিকো সীমান্ত হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
- আশ্রয় আবেদন নাকচ: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা আশ্রয়ের আবেদন করলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা প্রত্যাখ্যাত হয়, যার ফলে মার্কিন প্রশাসন তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের পরিসংখ্যান:
| জেলা | সংখ্যা |
| নোয়াখালী | ২১ জন |
| লক্ষ্মীপুর | ০২ জন |
| গাজীপুর | ০১ জন (একমাত্র নারী সদস্য) |
| অন্যান্য ১৩ জেলা | ১৩ জন (প্রতি জেলা থেকে একজন করে) |
| মোট | ৩৬ জন |
জবাবদিহিতার দাবি:
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ২০২৫ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ১ হাজার ৩২০ জন ব্রাজিলে গেছেন, যার মধ্যে ৯৫১ জনই নোয়াখালীর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্রাজিলকে কেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এই দায় কার? যারা বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর আড়ালে এই অবৈধ পথকে উসকে দিচ্ছে, সেই সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
















