নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গ্রামবাসীদের অপহরণ করেছে বলে অবশেষে স্বীকার করেছে দেশটির পুলিশ। ঘটনার পর প্রথমে অপহরণের কথা অস্বীকার করা হলেও পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং নিরাপত্তা বাহিনী অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাইজেরিয়ার জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র বেঞ্জামিন হুন্ডেইন জানান, একটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপদে উদ্ধার ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ তাদের বিবৃতিতে অপহৃতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।
এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাদুনা রাজ্যের আইনপ্রণেতা উসমান দানলামী স্টিঙ্গো বলেন, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১৬৮ জন। অন্যদিকে উত্তর নাইজেরিয়ার খ্রিস্টান সংগঠন খ্রিস্টিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়ার প্রধান রেভারেন্ড জন হায়াব রয়টার্সকে জানান, অন্তত ১৭২ জন উপাসককে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নয়জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এতে এখনো ১৬৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববারের এই হামলাটি নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে ওঠা গণঅপহরণের ধারাবাহিকতার অংশ। দেশটিতে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে প্রায়ই গ্রাম লুট, মানুষ অপহরণ এবং মুক্তিপণের দাবি করে থাকে। এসব হামলায় খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কাদুনা রাজ্যের কুরমিন ওয়ালি গ্রামে রোববার সশস্ত্র কয়েক ডজন ব্যক্তি হামলা চালায়। সে সময় গ্রামবাসীরা তিনটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছিলেন। হামলাকারীরা গ্রামের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বাসিন্দাকে তুলে নিয়ে যায়।
হামলার দুই দিন পর অপহরণকারীরা শর্ত দেয় বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ঝোপে লুকিয়ে রাখা ১০টি মোটরসাইকেল ফেরত দিতে হবে, তাহলেই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, মোটরসাইকেলগুলোর অবস্থান তারা জানেন না এবং আগের লুটপাটের কারণে অনেক পরিবারই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে নাইজার রাজ্যের একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করেছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী। পরে তাদের মধ্যে কিছু পালিয়ে আসে এবং বাকিদের কয়েক সপ্তাহ পর ধাপে ধাপে মুক্তি দেওয়া হয়।
নাইজেরিয়া জনসংখ্যার দিক থেকে প্রায় সমানভাবে খ্রিস্টান ও মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন সংঘাতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষই প্রাণ হারাচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষভাবে খ্রিস্টানদের ওপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। নাইজেরিয়া সরকার জানায়, এসব হামলার অনুমোদন তারা দিয়েছিল।
















