মাগরিবের নামাজের পর পীরবাগে হামলা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী
রাজধানীর মিরপুরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মিরপুর মডেল থানাধীন পীরবাগ আল মোবারক মসজিদের ভেতরে ও বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ জামায়াতের অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাগরিবের নামাজের পরপরই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিত এই হামলা চালায় এবং বেশ কিছু নেতাকর্মীকে মসজিদের ভেতরে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই এলাকাটি ঢাকা-১৫ আসনের অন্তর্গত, যেখান থেকে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন সব দল প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন রাজধানীর উপকণ্ঠে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির এই সংঘাত নির্বাচনি পরিবেশে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
হামলা ও জখমের বিস্তারিত চিত্র
পীরবাগের স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনার ধারাবাহিকতা ছিল নিম্নরূপ:
- মাগরিবের নামাজের পর হামলা: মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এবং ভেতরে থাকা অবস্থায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
- আহতদের সংখ্যা: হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- মসজিদে অবরুদ্ধ: হামলার সময় বেশ কয়েকজন জামায়াত কর্মীকে মসজিদের ভেতরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. সেনা ও পুলিশ মোতায়েন: মিরপুর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মইনুল হক জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে এবং এলাকায় টহল জোরদার করে।
২. বিক্ষোভ মিছিল: হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাত ৮টার দিকে মিরপুর ৬০ ফিট এলাকায় কয়েকশ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
৩. বিএনপির দুঃখ প্রকাশ: নয়া দিগন্তের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি সমীকরণ
ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনটি এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন। এই হামলার ঘটনাটি নির্বাচনি প্রচারণার অংশ কি না অথবা দীর্ঘদিনের স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধের ফল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
















