‘আমার জীবনের প্রথম ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়’: ফেসবুক পোস্টে এনসিপি নেত্রীর ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু এই আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পাশাপাশি তিনি এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ফয়জুল হককে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। ডা. মিতু জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও মাঠে থাকবেন এবং জোটের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াত জোটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দের ঠিক আগের দিন এনসিপি প্রার্থীর এই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ঝালকাঠির রাজনীতিতে বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ডা. মিতু কেবল নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারই করেননি, বরং তাঁর অনুসারীদেরও জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে যা বললেন ডা. মিতু
ডা. মাহমুদা মিতু তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন:
- দলীয় আনুগত্য: “আলহামদুলিল্লাহ, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম।”
- ভোটের অঙ্গীকার: তিনি আরও যোগ করেন, “আমার জীবনের প্রথম ভোট ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লায় হবে।”
- সমর্থন ও আহ্বান: কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আসনের ভোটার ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা আমাকে ভালোবাসেন, আমার পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি আমার ভাই ফয়জুল হক ভাইয়ের পাশে থাকার দাবি রইল।”
মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি ও গণভোট
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও ডা. মিতু ঝালকাঠি-১ নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন:
১. প্রচারণায় অংশগ্রহণ: তিনি বলেন, “আমি ইনশাআল্লাহ পুরো সময় মাঠে থাকব। ঝালকাঠি-১ আসনের গণমানুষের ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক।”
২. দ্বৈত প্রচারণা: তিনি একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এবং সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াত প্রার্থীর অবস্থান ও নির্বাচনি হাওয়া
ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হক ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এনসিপি নেত্রী ডা. মিতুর সমর্থন পাওয়ার পর তাঁর নির্বাচনি শক্তি বহুগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই আসনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় মূল লড়াই এখন বিএনপি বনাম জামায়াত সমর্থিত জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
















