রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানি; লিটার পড়বে ১৩১ টাকা
আসন্ন রমজান মাসে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কানাডার প্রতিষ্ঠান ‘এনএসরিক গ্রীন সাপ্লাইজ’ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (DPM) এই তেল সরবরাহ করবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১.০৭৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা)। দুই লিটারের পেট বোতলে এই তেল চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২.৩২ টাকা হিসেবে এই আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা।
আমদানির মূল তথ্য ও ব্যয় কাঠামো:
- সরবরাহকারী: এনএসরিক গ্রীন সাপ্লাইজ, কানাডা (তেলের উৎস: ব্রাজিল)।
- পরিমাণ: ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার (পরিশোধিত)।
- দরের তুলনা: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলিত দর ছিল ১.৩২০ ডলার, তবে সরকার তা ০.২৪৫ ডলার কমে ১.০৭৫ ডলারে কিনছে।
- ভর্তুকিহীন বিক্রয়: আমদানিকৃত তেল বাজার মূল্যের চেয়ে কমে কিন্তু ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি করা হবে। ফলে সরকারের বাড়তি কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন পড়বে না।
রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা:
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতি বছর রমজানে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও দাম বাড়ানোর প্রবণতা থাকে। বাজারে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:
| লক্ষ্যমাত্রা | বিবরণ |
| মোট সরবরাহ | রমজানে বাজারে ৫০ হাজার মেট্রিক টন তেলের প্রবাহ নিশ্চিত করা। |
| সরাসরি ক্রয় | নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। |
| পণ্যের তালিকা | পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, চিনি ও লবণের পাশাপাশি বিভিন্ন ভোজ্যতেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত বহাল। |
মন্ত্রণালয়ের মতে, এই আমদানির ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং মজুতদারদের সিন্ডিকেট ভেঙে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে।
















