তিস্তা পাড়ের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস
কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন দ্রুত শেষ করতে চীনের প্রতিশ্রুতি
তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ–দুর্দশার স্থায়ী সমাধানে শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার দুপুরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান–এর সঙ্গে তিনি রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ও চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর ঘুরে দেখেন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সংকট ও দীর্ঘদিনের দাবিগুলো শোনেন। স্থানীয়রা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ ও কার্যকর ব্যবস্থা চান।
কাউনিয়ার বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে এবং তারা নিরাপদ ভবিষ্যৎ পাবে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্পে চীন কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে। তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা এবং আর্থিক টেকসইতা—এই দুই দিক নিয়ে পৃথক সমীক্ষা চলছে। বিশাল বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চীন সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষের সমস্যাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত শেষ করা হবে এবং খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চীন সবসময় পাশে থাকবে এবং দেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায়ও তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
















