বাংলাদেশে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসায় অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। বিএমইউ-এর এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রোগের আচরণ বুঝে চিকিৎসা দিলে শারীরিক ঝুঁকি ও ব্যয়—দুটোই কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হলেও সঠিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ)-এর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘থাইরয়েড নোডুল ও ক্যান্সার: হালনাগাদ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক এক সেন্ট্রাল সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই আশাপ্রদ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, থাইরয়েড ক্যান্সারের ধরন ও আচরণ বুঝে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রদান করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব, যা রোগীর ঝুঁকি ও চিকিৎসা ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর অটোল্যারিংগোলজি ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক এবং হেড-নেক সার্জারি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. কে এম এম আব্দুস সাত্তার। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন দশকে বিশ্বব্যাপী থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে এবং বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “অধিকাংশ থাইরয়েড ক্যান্সার চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কেবল আক্রান্ত অংশের অস্ত্রোপচার করলেই রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে। তাই সব রোগীর ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে একই চিকিৎসা না দিয়ে রোগের ঝুঁকি বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা জরুরি।”
অধ্যাপক ডা. সাত্তার আরও জানান, কিছু থাইরয়েড ক্যান্সার দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতাবস্থায় থাকে এবং তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি তৈরি করে না। অন্যদিকে, যেগুলো তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক, সেগুলোর জন্যও বর্তমানে দেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা বিদ্যমান। ফলে এই রোগ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সঠিক রোগ নির্ণয় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার থাইরয়েড ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ সংক্রান্ত গবেষণায় আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। অপর বিশেষ অতিথি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদও উপস্থিত ছিলেন। সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে থাইরয়েড নোডুল শনাক্তকরণ বিষয়ে পৃথক প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল বারী।
















