সিরিয়া সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে। ১৪ দফার এই চুক্তির আওতায় এসডিএফ বাহিনী কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দীর্ঘ কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক এক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে সিরিয়া সরকার এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এক দশক ধরে চলা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নতুন মোড় এসেছে।
১৪ দফা বিশিষ্ট এই বিস্তৃত চুক্তিপত্রে সিরিয়া সরকারের পক্ষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এবং এসডিএফ-এর পক্ষে প্রধান সেনাপতি মাজলুম আবদি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এসডিএফ বাহিনীকে পর্যায়ক্রমে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর সাথে একীভূত করা হবে। এছাড়া রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাঞ্চল থেকে এসডিএফ তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দেইর আল-জোর এবং রাক্কা প্রদেশ থেকে কুর্দি যোদ্ধারা সরে যাবে এবং সেখানে সরকারি প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এই চুক্তিকে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় বড় জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, চুক্তির ফলে আল-হাসাকা, দেইর আজ-জোর ও রাক্কা প্রদেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হবে। আজ সোমবার রাজধানী দামেস্কে দুই নেতার মধ্যে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার পর চুক্তির বিস্তারিত কারিগরি দিকগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে যে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এদিকে, সিরিয়ার এই অভ্যন্তরীণ সমঝোতাকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। প্রতিবেশী দেশ জর্ডান এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি সিরিয়ার ঐক্য ও স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই দিন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়ায় কুর্দিদের সাথে সরকারের এই সমঝোতা দেশটিতে শান্তি পুনরুদ্ধারের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















