ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যেকোনো হামলাকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে সতর্ক করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কড়া বার্তা দিলেন। একই সঙ্গে দেশে চলমান বিক্ষোভ ও প্রাণহানির জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছে ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যেকোনো ধরনের আঘাত বা হামলাকে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কড়া বার্তা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে খামেনিকে অপসারণ বা হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে বলেন, “আমাদের দেশের মহান নেতার ওপর হামলা মানে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা।” গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে চলমান ভয়াবহ বিক্ষোভ এবং তাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন তিনি। পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, “ইরানের জনগণের জীবনে যদি কোনো কষ্ট বা সীমাবদ্ধতা থেকে থাকে, তবে তার প্রধান কারণ হলো মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং অমানবিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।”
গত শনিবার সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়াতুল্লাহ খামেনির দীর্ঘ ৪০ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তাঁকে ‘একজন অসুস্থ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (Regime Change) এবং খামেনির শাসনের অবসান চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর জবাবেই মূলত পেজেশকিয়ান এই ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র আগাম বার্তা দিয়ে রাখলেন।
এদিকে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে খামেনিবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং আটক হয়েছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেহরান দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখলেও গতকাল রবিবার থেকে সীমিত আকারে তা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বা সামরিক অভিযান কেবল ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আপাতত ইরানের রাস্তায় আপাত শান্তি বিরাজ করলেও ভেতরকার চাপা ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















