টানা ৯ দিনের শুনানি শেষে অধিকাংশ আপিল মঞ্জুর, চার বিএনপি প্রার্থিতা বাতিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে চার শতাধিক প্রার্থী আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন বলছে, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাত করা হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে চার শতাধিক প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন-এ টানা ৯ দিন ধরে চলা শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত আসে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট আপিলকারীর ৬৫ শতাংশের বেশি প্রার্থী আপিলে সফল হয়েছেন। গত ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া শুনানি শেষ হয় রোববার (১৮ জানুয়ারি)।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও প্রতিপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে ইসি। তারা হলেন— কুমিল্লা-৪ আসনের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, কুমিল্লা-১০ আসনের আব্দুল গফুর ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর এবং যশোর-৪ আসনের তালহা শাহরিয়ার (টিএস) আইয়ুব।
শেষ দিনের আপিল শুনানি
রোববার নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে শেষ দিনের শুনানিতে ৬৩টি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ২১টি ও গ্রহণের বিরুদ্ধে দুটি আপিল মঞ্জুর করা হয়। নামঞ্জুর হয় ৩৫টি আবেদন। এছাড়া তিনটি আপিল প্রত্যাহার এবং দুটি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
কোন দিনে কতজন প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
ইসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
১০ জানুয়ারি ৫১ জন, ১১ জানুয়ারি ৫৮ জন, ১২ জানুয়ারি ৪১ জন, ১৩ জানুয়ারি ৪৪ জন, ১৪ জানুয়ারি ৭৩ জন, ১৫ জানুয়ারি ৩৩ জন, ১৬ জানুয়ারি ৬০ জন, ১৭ জানুয়ারি ৪৪ জন এবং শেষ দিনে ২১ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান।
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু
নবম দিনের শুনানিতে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আপিলের নিষ্পত্তি হয় বেশি। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ২৩টি আপিলের মধ্যে ২০ জন প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, দুজনের মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
যাদের আর বাধা নেই
দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা কাটায় এখন বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে একাধিক প্রার্থী নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
ইসির অবস্থান
আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ইসি কোনো পক্ষপাত করেনি। তার ভাষায়, “আমরা চাই নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হোক। আইন যে সুযোগ দিয়েছে, সেখানেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ইসির পক্ষ থেকে কোনো দল বা প্রার্থীর প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি এবং সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের লক্ষ্য।
















