কারিগরি ত্রুটি ও ঐতিহাসিক মানদণ্ড রক্ষা না করায় ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’র বড় অংশ বাদ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ প্রকল্পের আওতায় ধারণ করা ১৪ হাজার ৬৪০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভিডিওগুলো মানসম্মত না হওয়া এবং নির্ধারিত কারিগরি ও ঐতিহাসিক মানদণ্ড উত্তীর্ণ না হওয়ায় ১০ সদস্যের পর্যালোচনা সাব-কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ হাজার জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাথা সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই প্রকল্প শুরু হয়। তবে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ (এমটিআই) নির্ধারিত ১৯টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন ও কারিগরি মান অনুসরণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিও বাতিলের প্রধান কারণসমূহ:
- শর্ত লঙ্ঘন: প্রতিটি সাক্ষাৎকারে বীর মুক্তিযোদ্ধার সেক্টর, কার নির্দেশে যুদ্ধ, সম্মুখযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং অস্ত্রের প্রশিক্ষণের মতো মৌলিক ১৯টি প্রশ্ন করার কথা থাকলেও অধিকাংশ ভিডিওতে তা মানা হয়নি।
- নিম্নমানের কারিগরি কাজ: পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভিডিওগুলোর শব্দের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কারিগরিভাবে ত্রুটিপূর্ণ, যা ভবিষ্যতে আর্কাইভে রাখার অনুপযোগী।
- ইতিহাসের বিভ্রান্তি: মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্যে ভরা ভিডিও সংরক্ষণ করা ইতিহাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
- তড়িঘড়ি করে কাজ: অভিযোগ রয়েছে যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গুনাগুণ বিচার না করে দ্রুত বিল তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছে।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও বিতর্ক:
| বিবরণ | পরিসংখ্যান/তথ্য |
| মোট লক্ষ্যমাত্রা | ৮০,০০০ বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার |
| গৃহীত মোট ভিডিও | ২৭,৪২৮টি |
| অনুমোদিত ও সংরক্ষিত | ১২,৭৮৮টি (বিগত সরকারের আমলে) |
| বাতিলকৃত ভিডিও | ১৪,৬৪০টি |
| প্রকল্পের মোট ব্যয় | ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা |
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য:
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশরাত চৌধুরী জানিয়েছেন, শর্ত পূরণ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না। অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমটিআই-এর দাবি, তারা ডিসি ও ইউএনও-দের সমন্বয়ে সঠিকভাবেই কাজ করেছে। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাদের কোনো কথা না শুনেই রহস্যজনকভাবে এই ভিডিওগুলো বাতিল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
















