বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশটির সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম মালিকরা। রাজধানী ঢাকায় দুটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের ওপর হামলার ঘটনার পর শনিবার তারা সরকারের কাছে সুরক্ষার আহ্বান জানান।
তাদের অভিযোগ, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো নামে দুটি শীর্ষ পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা হলেও প্রশাসন তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
গত ডিসেম্বরে একজন প্রভাবশালী ইসলামপন্থী নেতার মৃত্যুর পর উত্তেজিত লোকজন ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভেতরে থাকা সাংবাদিক ও কর্মীদের আটকে ফেলে। পরে ডেইলি স্টারের ছাদে আশ্রয় নেওয়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভবন লুটপাট হয় এবং ঘটনাস্থলে গেলে সম্পাদক পরিষদের এক নেতাকে মারধরের শিকার হতে হয়। একই দিনে ঢাকায় কয়েকটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তারা আগেই সাহায্য চাইলেও প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী পত্রিকাগুলোর বাইরে বিক্ষোভ করে ভারতঘেঁষা হওয়ার অভিযোগ তোলে, যার পর এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
শনিবার সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এক সভায় দেশজুড়ে সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রক্ষার আহ্বান জানান।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে চুপ করানোর চেষ্টা একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞও ডিসেম্বরে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আইরিন খান বলেন, সাংবাদিক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে জনরোষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসেন। তিনি স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
















