১৪ অক্টোবর ২০২৫
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
অভিযান ও দণ্ড
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক। দণ্ড ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আকতার হোসেন, মাহবুল আলম, আব্দুল মজিদ, রিপন মিয়া, রবিউল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, মোস্তফা মিয়া, মামুন ও আছর উদ্দিন। এর মধ্যে রবিউল ইসলামকে দুই দিনের, আছর উদ্দিনকে ২৫ দিনের, এবং বাকি সাতজনকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
কীভাবে অভিযানটি পরিচালিত হয়
প্রশাসন ও পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে বালুমহাল বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি ঝিনাইগাতীর কালাঘোষা ও গজনী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল। উত্তোলিত বালু ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছিল।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোমবার ভোরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল-এর নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০টি অটোভ্যান ও একটি ট্রলি বালুসহ জব্দ করা হয়, এবং চালকদের আটক করা হয়।
দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বসানো ভ্রাম্যমাণ আদালতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৪ ধারা এবং ১৫(১) ধারার অধীনে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের অবস্থান
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের রায় ঘোষণার পরই শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন,
“সরকারি বালুমহাল বন্ধ থাকা অবস্থায় কেউ যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, নিয়মিত অভিযান চালানো গেলে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
















