বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারতের অধিনায়কদের মধ্যে টসের সময় দেখা যায় অস্বাভাবিক দৃশ্য। টসের মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার ও ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। দুজনই একে অপরকে এড়িয়ে যান।
ভারত পাকিস্তান ম্যাচে আগে যেমন নো হ্যান্ডশেকের ঘটনা ঘটেছিল, এবার তেমন দৃশ্য দেখা গেল বাংলাদেশ ভারত ম্যাচেও। কোন দলের সিদ্ধান্তে এই রীতি মানা হয়নি তা স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত পাকিস্তান ম্যাচে ভারতই বারবার হাত মেলানো এড়িয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম হলেও টসের সময় তিনি প্রস্তুত না থাকায় জাওয়াদ আবরারকে পাঠানো হয়। জিম্বাবুয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে বাংলাদেশ ভারতকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়।
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে এবার একই গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটি শুরু হয় এমন সময়ে, যখন দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে শীতলতা বিরাজ করছে।
ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটিতে আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে দশম টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের মাটিতে নির্ধারিত।
তবে উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ইস্যু নতুন করে সামনে আসে। আইসিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক দলের অভ্যন্তরীণ হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও ভারতে ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। আইসিসি অনুরোধ করলেও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় বাংলাদেশের ম্যাচ ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ ভারত ম্যাচে অধিনায়কদের হাত না মেলানোর ঘটনা নজরে আসে। হ্যান্ডশেক বাধ্যতামূলক না হলেও খেলাধুলায় এটি সাধারণ সৌজন্য রীতি হিসেবে দেখা হয়।
এর আগে সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ভারত ভিন্ন অবস্থান নেয়। পাকিস্তানকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে টসের সময় এবং ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা হাত মেলাবেন না। সে সময় ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানের তিন ম্যাচেই এই রীতি অনুসরণ করা হয়নি।















