গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ফেলে রাখায় ক্ষোভ; সাংবাদিকতায় ‘সেলফ রেগুলেশন’ ও ঐক্যবদ্ধ ফোরাম গড়ার আহ্বান।
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সভাপতি রেজওয়ানুল হক অভিযোগ করেছেন যে, কোনো সরকারই আসলে স্বাধীন সাংবাদিকতা পছন্দ করে না। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হলেও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সভাপতি ও মাছরাঙা টিভির প্রধান সম্পাদক রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, “কোনো সরকার আসলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া দেখতে চায় না। যখন কোনো দল বিরোধী দলে থাকে, তখন গণমাধ্যমকে বন্ধু মনে করে; কিন্তু ক্ষমতায় গেলেই মিডিয়া তাদের কাছে শত্রু হয়ে যায়।”
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এক ‘গণমাধ্যম সম্মিলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে রেজওয়ানুল হক বলেন, “যাঁরা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেন, তাঁরাও গণমাধ্যম সংস্কারের কাজটা করতে পারলেন না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও সেই রিপোর্ট এখন ফেলে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
সাংবাদিকদের অনৈক্যকে বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি বলেন, অতীতেও সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু তা টেকসই হয়নি। সংকট মোকাবিলায় তিনি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য অন্তত একটি অভিন্ন ফোরাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে একটি সম্মিলিত নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের কীভাবে সাংবাদিকতা করা উচিত, কোনটা করা উচিত আর কোনটা উচিত না—সে বিষয়ে নিজেদের ‘সেলফ রেগুলেশনের’ (স্ব-নিয়ন্ত্রণ) আওতায় আনতে হবে। এমন একটি নীতিমালা থাকলে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি।”
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন স্তরের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা অংশ নিয়েছেন।















