ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে (চার্জশিট) অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি আবেদন দিয়েছেন মামলার বাদী। একইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ও আদালতে নারাজি
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই নারাজি আবেদন দাখিল করেন। পরে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ডিবি পুলিশ যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে প্রকৃত খুনি চক্রকে আড়াল করা হয়েছে।
জাবের বলেন, “তদন্ত সংস্থা নিজেই জানিয়েছিল ওসমান হাদিকে হত্যার জন্য ৫টি পৃথক টিম কাজ করেছিল। কিন্তু চার্জশিটে বাকি ৪টি গ্রুপের কোনো উল্লেখ নেই। এটি একটি সুপরিকল্পিত খুনি চক্রের কাজ, যা তদন্তে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।”
দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সংবাদ সম্মেলন থেকে আজ শুক্রবার দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো এই বিচার যেন তারিখের আবর্তে হারিয়ে না যায়। যদি দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হয়, তবে আগামীতে অবরোধ, যমুনা ঘেরাও এবং সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”
প্রেক্ষাপট: বক্স কালভার্ট রোডের সেই হামলা
গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বর্তমানে ১১ জন আসামি কারাগারে থাকলেও ৬ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের কারণে একটি প্রশিক্ষিত খুনি চক্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যার পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
















