নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতা, গণমাধ্যমে হামলা ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের রেকর্ডই শেষ পর্যন্ত কথা বলবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
নির্বাচনের এক মাস আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা–কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, গণমাধ্যমে হামলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
শফিকুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক হলেও সরকার পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। তাঁর ভাষায়, “গত সপ্তাহেই অন্তত তিনটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ হয়েছে, লাখো মানুষের অংশগ্রহণ ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণভাবে সেগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছে।”

ঢাকায় গণমাধ্যম কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কেন তারা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হলো—তা তদন্তাধীন। ইতোমধ্যে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বহু হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
গণমাধ্যমের সম্পাদকদের অভিযোগ এবং জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে শফিকুল আলম বলেন, “এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাদের ১৭ মাসের রেকর্ড দেখুন—অপরাধ পরিসংখ্যান দেখুন। আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি লালন করছি না।”
আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই অগণতান্ত্রিক নয়। তারা নিজেরাই রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ দলটির কর্মীরা অস্ত্র হাতে মানুষ হত্যা করেছে।”
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। “আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। তিনি দণ্ডিত হলে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারত তাকে ফেরত পাঠাবে।”
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম বাংলাদেশকে ‘সহিংস ইসলামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে’ দেখানোর চেষ্টা করেছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে শফিকুল আলম বলেন, “তিনি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ক্ষুব্ধ সমাজ সামলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছেন। ইতিহাস তাঁর প্রতি সদয় হবে।”
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে তিনি বলেন, “আমাদের রেকর্ডই কথা বলবে—অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, কূটনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা—এসবই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”
















