ভারত থেকে নিম্নমানের ভেনামি চিংড়ির ‘নাপলি’ (পোনার প্রাথমিক স্তর) আমদানির সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের চিংড়ি খাতের উদ্যোক্তারা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) অভিযোগ করেছে, মৎস্য অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে দেশীয় হ্যাচারি শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই আমদানির অনুমতি
সংবাদ সম্মেলনে সেব নেতারা জানান, মৎস্য অধিদপ্তর সম্প্রতি সাতক্ষীরার একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি ‘মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা ২০২৪’ এবং ২০২৩ সালের ‘ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন নীতিমালা’র চরম লঙ্ঘন।
সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, “বিদ্যমান বিধিমালায় কেবল ব্রুড (মা মাছ) ও পিএল আমদানির বিধান থাকলেও নাপলি আমদানির কোনো আইনি সুযোগ নেই। এই সিদ্ধান্ত সরাসরি দেশীয় বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”
দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বনাম আমদানির যৌক্তিকতা
মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ছয়টি হ্যাচারি বছরে ২৫০ কোটির বেশি ভেনামি পোনা উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে। যেখানে দেশে বার্ষিক চাহিদা মাত্র ১৫ থেকে ২০ কোটি।
- অতিরিক্ত আমদানির প্রভাব: দেশীয় হ্যাচারিগুলো যেখানে চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে, সেখানে ভারত থেকে নাপলি আমদানির সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন ব্যবসায়ীরা।
- সিন্ডিকেট আতঙ্ক: আমদানির মাধ্যমে বাজারে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট তৈরি করে শত শত কোটি টাকার দেশীয় বিনিয়োগকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভারত থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের নাপলিতে ক্ষতিকর ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া থাকার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এটি কেবল ভেনামি নয়, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী বাগদা ও গলদা চিংড়ি শিল্পকেও মহামারি বা মড়কের ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সেব মহাসচিব গিয়াস উদ্দিন মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই আমদানির অনুমতি বাতিল না করা হলে কয়েক হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা বেকার হয়ে পড়বেন এবং দেশীয় মৎস্য শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।















