দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পর অবশেষে আসন সমঝোতায় পৌঁছেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে এই ঐক্যে শুরুতে থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে শেষ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আসন বণ্টনের পরিসংখ্যান: কার ঝুলিতে কত?
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের দলভিত্তিক আসন সংখ্যা ঘোষণা করেন। ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী দলগুলোর আসন বণ্টন নিম্নরূপ:
| রাজনৈতিক দল | বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা |
| বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | ১৭৯ |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) | ৩০ |
| বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস | ২০ |
| খেলাফত মজলিস | ১০ |
| লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP) | ৭ |
| আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি | ৩ |
| বিডিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টি | ৪ (প্রতিটি ২ করে) |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (সংরক্ষিত) | ৪৭ |
| অন্যান্য দল (জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন) | আসন সংখ্যা পরে নির্ধারিত হবে |
ইসলামী আন্দোলন ও ‘অপেক্ষার ৪৭ আসন’
নির্বাচনী মোর্চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের থাকা না থাকা নিয়ে ছিল মূল নাটকীয়তা। দলটির জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জোট ভাঙেনি, আমাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করি চরমোনাই পীরের দল শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবে।”
তবে ইসলামী আন্দোলন সূত্র জানিয়েছে, তারা অন্তত ৮০টি আসনের দাবিতে অনড় ছিল। জামায়াত ৪৫টির বেশি ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় এই টানাপোড়েন তৈরি হয়। ইসলামী আন্দোলন আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে জানা গেছে।
‘এক বাক্সে এক ভোট’ নীতি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই ঐক্যের মূল লক্ষ্য হলো ইসলামপন্থীদের ভোট যেন ভাগ না হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা এক বাক্সে ভোটের এই কৌশল ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। জামায়াত আমির এই নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং ‘অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, সমঝোতার বাইরে থাকা দলগুলোর প্রার্থীরা আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র তুলে নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।















