ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ আপাতত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দেশটির নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা দমনে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছে মস্কো। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ইরান বিশ্লেষকদের একজনের বরাতে এমনটাই জানা গেছে।
রাশিয়ার ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকিতা স্মাগিন আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাস মস্কোকে জানিয়েছে যে বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে এবং ক্রেমলিন এখন স্বস্তি বোধ করছে। তার মতে, রাশিয়ার দৃষ্টিতে ইরানের ভেতর থেকে সরকার পতনের মতো কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশটির শত শত শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী এসব বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্মাগিন বলেন, মস্কোর মূল্যায়নে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের তীব্র সমালোচনা করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে বাইরের শক্তিগুলো তথাকথিত রঙিন বিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করছে। তার দাবি, প্রশিক্ষিত উসকানিদাতারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দিচ্ছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাশিয়ার মতে, কৃত্রিমভাবে উসকে দেওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং এর ফলে ইরানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ইঙ্গিত দেন। এসব মন্তব্যকে রাশিয়া স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে রাশিয়ার পক্ষে ইরানের পরিস্থিতিতে সরাসরি কোনো ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ সীমিত। ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কায় মস্কো এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা তার কূটনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটে রাশিয়ার অবস্থান আপাতত পর্যবেক্ষক হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
















