ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ছড়িয়ে দেওয়ার মূল হোতা—হোয়াইট হাউসের এমন দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষক ও মাদকনীতি বিশেষজ্ঞরা। সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
হোয়াইট হাউসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ফেন্টানিল সরবরাহকারী গ্যাংগুলোর পেছনে রয়েছেন। ওই পোস্টে ফেন্টানিলের কারণে সন্তান হারানো কয়েকজন অভিভাবককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়, যিনি মাদুরোকে আটক করার দাবি করেছেন।
৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন সেনারা কারাকাসে মাদুরোর বাসা থেকে তাকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। পরে ৫ জানুয়ারি নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে তারা মাদক পাচারের অভিযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ও মাদক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা বা মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল প্রবাহের কোনো সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অধিকাংশ অবৈধ ফেন্টানিল আসে মেক্সিকো থেকে এবং তা উৎপাদিত হয় চীনে সরবরাহ করা রাসায়নিক উপাদান দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একাধিক প্রতিবেদনে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোথাও ভেনেজুয়েলাকে ফেন্টানিল উৎপাদক বা সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ হওয়া ফেন্টানিলের প্রধান উৎস মেক্সিকো। তাছাড়া ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল পাচারের ঘটনায় ধরা পড়া ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন মার্কিন নাগরিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলা মূলত কোকেন পাচারের ক্ষেত্রে একটি ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদক কলম্বিয়ার প্রতিবেশী। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অধিকাংশ কোকেনও ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে আসে না।
মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, তাতেও ফেন্টানিলের কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে মূলত কোকেন পাচার, নার্কো-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র, অর্থপাচার ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদকনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলজনিত মৃত্যুর সংকট মূলত উত্তর আমেরিকার সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত এবং দক্ষিণ আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চলের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
সব তথ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ছড়িয়ে দিচ্ছেন—হোয়াইট হাউসের এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা ভিত্তিহীন।
















