চরমোনাই পীরের দলের জোট ত্যাগের ঘোষণার পর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে ১০ দলের জরুরি বৈঠক; আসন বণ্টন নিয়ে বিরোধই মূল কারণ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে। আসন সমঝোতা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জোটের বাকি ১০ দলের নেতারা মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে সদ্য গঠিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট। আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ দরকষাকষির পর জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে এই খবর নিশ্চিত হওয়ার পর জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন বাকি ১০টি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা।
আসন নিয়ে দরকষাকষি ও বিরোধ
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের কাছে ৫০টিরও বেশি আসন দাবি করেছিল। অন্যদিকে, জোটের বৃহত্তম দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে ছিল। বুধবার রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনো সমাধান না আসায় আসন বণ্টনের যৌথ ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা হাসান জুনাইদ বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন যে, আসন সমঝোতায় বনিবনা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন জোটের সঙ্গে আর থাকছে না।
মগবাজারের বৈঠকে যারা উপস্থিত
বৃহস্পতিবারের জরুরি বৈঠকে ১০টি দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন:
- ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (নায়েবে আমির, জামায়াতে ইসলামী)
- মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)
- নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি)
- আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ (চেয়ারম্যান, বিডিপি)
- মজিবুর রহমান মঞ্জু (চেয়ারম্যান, এবি পার্টি)
- ড. আহমদ আবদুল কাদের (মহাসচিব, খেলাফত মজলিস)
রাজনৈতিক সমীকরণ ও পরবর্তী ধাপ
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই জোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত করার চাপ ছিল দলগুলোর ওপর। ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে যাওয়ায় এখন ১০ দলীয় জোট হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, নাকি জামায়াত ও এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আলাদা কৌশল নেবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ৬০ থেকে ৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। জোট ভাঙার ফলে ইসলামপন্থী ও সমমনা দলগুলোর ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।















