দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত পর্যায়ে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে যমুনায় প্রবেশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস এবং তাঁর কন্যা দিনা ইউনূস তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী এই বৈঠকে উভয় পরিবারের সদস্যরা কুশল বিনিময় করেন। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর ৯ জানুয়ারি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এর আগে গত বছরের জুনে লন্ডন সফরকালে ডরচেস্টার হোটেলে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বৈঠক হয়েছিল, যা তখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংস্কার ভাবনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবিধানিক সংস্কার এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির যে প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান এবং প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বৈঠককে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর বিএনপির নেতৃত্বে আসা তারেক রহমান এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মনোযোগ দিচ্ছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় জনসভায় অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।














