ভারতের বদলে বিকল্প ভেন্যু চায় বিসিবি; আইসিসির সঙ্গে জুম মিটিংয়ে অনড় অবস্থান
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল মঙ্গলবার আইসিসির সঙ্গে এক জরুরি জুম মিটিংয়ে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের মাটিতে খেলবে না; বরং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি সূচি চূড়ান্ত হওয়ার অজুহাতে বাংলাদেশকে ভারতে খেলার অনুরোধ করলেও বিসিবি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রিকেটার ও স্টাফদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ তাদের কাছে সবার আগে। ৪ জানুয়ারি লিখিতভাবে এবং ৮ জানুয়ারি ভিডিও ও তথ্য-উপাত্তসহ ইমেইল করে বিসিবি ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও সমর্থকদের জন্য বিদ্যমান ঝুঁকির কথা আইসিসিকে অবহিত করে। এমনকি আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগও স্বীকার করেছে যে, কলকাতার মতো স্পর্শকাতর ভেন্যুতে বাংলাদেশের জার্সি পরা দর্শকরা হেনস্তার শিকার হতে পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল পয়েন্টসমূহ:
- বিকল্প ভেন্যু ও গ্রুপ পরিবর্তন: আইসিসি বর্তমানে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এর জন্য গ্রুপ বিন্যাসেও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। বাংলাদেশকে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সরিয়ে ‘বি’ গ্রুপে (যেখানে শ্রীলঙ্কা রয়েছে) নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
- বিসিসিআই-এর ভূমিকা: আইসিসির একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভেন্যু পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হলে আইসিসি বোর্ড সভার অনুমোদন লাগবে। এক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যদি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তবেই বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় হওয়া সম্ভব।
- সরকারের কঠোর অবস্থান: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইসিসির নিরাপত্তা রিপোর্ট অনুযায়ী যেখানে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে দল পাঠানো হবে না। মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
- গণমাধ্যমের প্রভাব: টি-২০ বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও চায় বাংলাদেশ খেলুক, কারণ বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয়তা অনেক বেশি। ফলে তারাও শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা আইসিসির সঙ্গে এই গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি বোর্ড সভায় বিসিসিআই-এর অবস্থান কী হয় এবং শেষ পর্যন্ত ‘দ্য ফিজ’ ও তাঁর সতীর্থরা কলম্বোর মাঠেই নামতে পারেন কি না।















