যুক্তরাষ্ট্র মিসর, লেবানন ও জর্ডানে সক্রিয় মুসলিম ব্রাদারহুড–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের কয়েক সপ্তাহ পর, যার মাধ্যমে এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় মিসর ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাগুলোকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে আরও কঠোর শ্রেণিতে ফেলে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব সংগঠন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখা নিজেদের বৈধ সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরলেও আড়ালে তারা হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে।
এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সালাহ আবদেল হক বলেন, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এবং আইনি সব পথ ব্যবহার করে এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তার দাবি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাপ কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে জড়িত থাকার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তালিকাভুক্তির ফলে এসব সংগঠনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করা বেআইনি হয়ে যাবে। পাশাপাশি তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। লেবাননের সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার ফলে তাদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশও নিষিদ্ধ হবে।
১৯২৮ সালে মিসরের ধর্মীয় চিন্তাবিদ হাসান আল-বান্নার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠন মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিশ্বাসী। লেবাননে মুসলিম ব্রাদারহুড–ঘনিষ্ঠ আল-জামা আল-ইসলামিয়া সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে। জর্ডানে তাদের রাজনৈতিক শাখা ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩১টি আসন জয় করলেও পরবর্তীতে সরকার সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে।
মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড ২০১২ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল মোহাম্মদ মুরসিকে। তবে এক বছরের মাথায় সামরিক অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যু হয়। ২০১৩ সাল থেকে মিসর সরকার সংগঠনটির বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান চালিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, এই পদক্ষেপ মুসলিম ব্রাদারহুডের উগ্র মতাদর্শ ও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য তাদের হুমকির স্বীকৃতি।
এদিকে লেবাননের আল-জামা আল-ইসলামিয়া বলেছে, তারা দেশটির আইনের আওতায় বৈধ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। সংগঠনটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক, যার কোনো আইনি প্রভাব লেবাননের ভেতরে পড়বে না।
যুক্তরাষ্ট্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
















