ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আনুষ্ঠানিকভাবে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং বিদেশি প্রভাব মোকাবিলাকে প্রচারের প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।
নির্বাচনী সমাবেশে লুলা বলেন, তিনি বিজয়ী হলে এটিই হবে তাঁর শেষ মেয়াদ। তিনি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিরল খনিজসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করে কোনো বিদেশি শক্তিকে সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং শুল্ক আরোপের ঘটনাও তাঁর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। লুলা অভিযোগ করেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবারের বিদেশি ঘনিষ্ঠতাকে নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন এখনো তীব্রভাবে বিভক্ত এবং নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই বাড়ছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মসূচিকে নিজের সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন লুলা। তবে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অপরাধ পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নই ব্রাজিলের ভোটারদের সামনে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
















