যুদ্ধবিরতির নতুন পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন, বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজা সিটির একটি বহুতল ভবনে বিমান হামলায় এক দম্পতি ও তাদের পাঁচ বছরের সন্তান নিহত হন। একই দিনে খান ইউনিস, দেইর আল-বালাহ, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং আল-মাওয়াসি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও কয়েকটি পরিবারের সদস্য প্রাণ হারান। বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। দেইর আল-বালাহর একটি হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণাগারেও হামলা চালানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হওয়ায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কতা বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে। এতে আবাসিক ভবন ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আলোচনা চললেও ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। পাশাপাশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও তারা জোর দিচ্ছে।
অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, চলমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে ভণ্ডুল করা হচ্ছে। তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়িয়ে হামলা বন্ধ এবং সমঝোতা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উত্তেজনা কমিয়ে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা কার্যকর করতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থল পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
















