নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট; মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আধা কিমি দূরে আগুনের লেলিহান শিখা
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে (মালামাল রাখার স্থান) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের টাউনশিপ এলাকার খোলা ইয়ার্ডে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত ১১:৪৫ মিনিট), প্রায় তিন ঘণ্টা পার হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতা বাড়ায় মহেশখালীর পাশাপাশি চকরিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে আপাতত বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।
সাগরদ্বীপ মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের টাউনশিপ এলাকায় হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্ধকার আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের জোর তৎপরতা
মাতারবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার সালাহ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন:
- বর্তমান অবস্থা: মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের ১০ জন কর্মী শুরুতে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। তবে মজুদকৃত কাষ্ঠখণ্ড ও দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আরও দুটি ইউনিটকে তলব করা হয়েছে।
- সম্ভাব্য কারণ: ইয়ার্ডে মূলত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কাঠ, টিন, লোহার রড ও পরিত্যক্ত মালামাল রাখা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করতে আসা দুর্বৃত্তদের ফেলে দেওয়া সিগারেটের আগুন কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
মাতারবাড়ী প্রকল্পের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি
স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে প্রধান উৎপাদন ইউনিটগুলোর অবস্থান। ফলে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মূল প্ল্যান্টটি আপাতত নিরাপদ রয়েছে। তবে ইয়ার্ডে মূল্যবান মালামাল থাকায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিশাল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় লবণশ্রমিক আমজাদ হোসেন জানান, রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খোলা জায়গা হওয়ায় বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি
আগুনের শিখা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইয়ার্ডে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ড কোনো পরিকল্পিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডস্থলে অবস্থান করছেন।















