পাইপ ফেটে তেল ছড়িয়ে পড়ায় ফাঁস হলো দুর্ধর্ষ চক্রের গোপন আস্তানা; পুলিশি অভিযানে ঘর মালিক শনাক্ত
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ঢাকা-চট্টগ্রাম জ্বালানি পাইপলাইন কেটে তেল চুরির এক অবিশ্বাস্য ও ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে। উপজেলার হাদিরফকির হাট এলাকায় পাইপলাইনের ওপর অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে প্রবল বেগে তেল বেরিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এই গোপন কারবার জনসমক্ষে আসে। প্রশাসনের ধারণা, হাজার হাজার লিটার তেল চুরির এই ঘটনা লোকচক্ষুর অন্তরালে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছিল, যা বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিপিসির কারিগরি দল অবস্থান করছে। তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা গেলেও পুরো এলাকাটি দাহ্য তেলের গন্ধে সয়লাব হয়ে আছে।
যেভাবে চলত চুরির গোপন ‘অপারেশন’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুরির ধরণ দেখে তারা রীতিমতো বিস্মিত।
- কৌশলী আস্তানা: পাইপলাইনের ঠিক ওপরে একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হয়েছিল। এই ঘরটিকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত চোর চক্র। বাইরের মানুষের বোঝার উপায় ছিল না যে, ঘরের ভেতরে মাটির নিচের প্রধান পাইপলাইন ছিদ্র করা হয়েছে।
- বিপজ্জনক পরিস্থিতি: আজ সকালে পাইপের সংযোগস্থলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তা ফসলি জমি ও নর্দমায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুরো বিষয়টি জানাজানি হয়।
প্রশাসনের অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের জানান, “বিপিসির কারিগরি দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় তেল বের হওয়া বন্ধ করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অস্থায়ী ঘরটির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন:
“আমরা জায়গার মালিক নূরজাহানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাঁর কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিপিসি থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা (এজাহার) করা হয়নি, তবে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে তৎপর রয়েছে।”
দীর্ঘদিনের অবহেলা নাকি নজরদারির অভাব?
বিপিসির ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইনটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ধমনী। জনবহুল এলাকায় এই পাইপলাইনের ওপর কীভাবে অবৈধ ঘর তোলা হলো এবং মাসের পর মাস তেল চুরি হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় প্রেশার সেন্সর থাকলে পাইপ ছিদ্র হওয়ার সাথে সাথেই ধরা পড়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় বিপিসির নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।















