সিন্ডিকেট ও অলিগার্কি শাসনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রার্থীই পেশায় ব্যবসায়ী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতিতে এই ব্যবসায়ী আধিপত্য বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বড় অন্তরায় এবং এর ফলে জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাগুলো ধূলিসাৎ হতে পারে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও হলফনামা অনুযায়ী, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপ্রাপ্তদের বড় অংশই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। বিএনপির ২৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭০ জনই ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ প্রার্থীর মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও (অন্তত ১৪৮ জন চাকরিজীবী ও ৯২ জন শিক্ষক) দলটিতে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা কম নয়। হলফনামা অনুযায়ী, নির্বাচনে বৈধ হওয়া ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫০১ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে বিএনপিতে সর্বোচ্চ ২১২ জন এবং জামায়াতে ৬৪ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৫ বছর ধরে দেশে যে ‘অলিগার্কি’ বা সিন্ডিকেট শাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, পেশাদার রাজনীতিবিদদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা আবারও সংসদ সদস্য হলে সেই একই ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা যখন আইন প্রণেতা হন, তখন তারা জনস্বার্থের চেয়ে নিজ ব্যবসার সুবিধার্থে নীতি প্রণয়ন করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়। সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অবৈধ সম্পদের মালিকরা পুনরায় ক্ষমতায় গেলে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের অবমাননা হবে। হলফনামায় প্রদর্শিত আয়ের উৎসের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজনীতিকে একটি মহান পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে এবং সৎ ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের সংসদমুখী করতে না পারলে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
















