১২ অক্টোবর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে আজ শনিবার ঢাকায় জরুরি সভা আহ্বান করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সভায় সারা দেশের জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠক শেষে রাজধানীতে একটি বৃহৎ মিছিল বা শোডাউন করবে জাতীয় পার্টি, যার নেতৃত্ব দেবেন জি এম কাদের নিজেই।
৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ আসন থেকে এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা–১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় ঐক্য ও প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন
দলীয় প্রতীক “লাঙ্গল” নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা জানান, ব্যারিস্টার আনিসুল হক ও রুহুল আমিন হাওলাদার নেতৃত্বাধীন একটি অংশ এনসিপির সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করছে এবং প্রতীক দাবিও তুলেছে।
তবে আইনগতভাবে লাঙ্গল প্রতীক জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন মূল দলের কাছেই রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রতীক–সংকট মূলত জাতীয় পার্টিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
‘জাতীয় পার্টিকে ঠেকাতে চলছে চক্রান্ত’
দলের কো–চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, “জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিতে নানা চক্রান্ত চলছে। আমরা ১৯৯৬ সালের একতরফা ভোট ছাড়া সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এবারও আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন,
“রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের প্রার্থী তালিকা ইতিমধ্যেই চেয়ারম্যানের হাতে দেওয়া হয়েছে।”
বিভিন্ন দলের চাপ ও অবস্থান
জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল। তবে জাপা এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নির্বাচন পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
‘এখনকার জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ’
রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন,
“জাতীয় পার্টি এখন সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও ক্লিন। যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল, তারা দল ছেড়ে চলে গেছে। এখন এটি এরশাদের মূল জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছে।”
তিনি মনে করেন, যদি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় এবং নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে জাতীয় পার্টি বহু আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। তবে দলটির ভেতরে নেতৃত্ব সংকট ও প্রতীক নিয়ে বিভক্তি থাকায় এবারের নির্বাচন তাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষাও বটে।
শনিবারের এই বৈঠকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, প্রার্থী তালিকা এবং রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছু নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলীয় নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
















