ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরের নানা অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেছেন, বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন পরিস্থিতি প্রায়ই তৈরি হয় এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তা আড়াল করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে এসব বিষয় খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে অনুরোধ জানিয়েছে, ভারতের পরিবর্তে অন্য কোনো ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে ভাবতে। এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি যে, বাংলাদেশ আদৌ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে কি না।
নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাস খুব একটা উজ্জ্বল নয়। আগের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো সুযোগ থাকলেও দল তা কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি জানান, প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে কোনো না কোনো বিতর্ক বা অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে, যা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও খেলোয়াড়রা পেশাদার হিসেবে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন এসব কিছুই তাদের ছুঁয়ে যায় না, বাস্তবে বিষয়টি মোটেও সহজ নয়।
তিনি আরও বলেন, এসব অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি না থাকলে ভালো হতো। তবুও খেলোয়াড়রা সবকিছু পাশে রেখে মাঠে ভালো করার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশ এখনো কোনো বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। আগামী মাসে দলটির তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচ কলকাতায় খেলার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত মাসে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়, বাংলাদেশের ময়মনসিংহে এক হিন্দু শ্রমিককে মারধর ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা এই টুর্নামেন্টে ভারতের ভেন্যুতেই খেলতে হবে, নতুবা ম্যাচ পরিত্যাগ করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এসব দাবি নাকচ করে বলেছে, কোনো ধরনের চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়নি এবং তারা আইসিসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চায়।
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে না থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, এসব সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেখানে খেলা হোক না কেন, খেলোয়াড়রা যেন সব চাপ উপেক্ষা করে দলের জন্য সেরাটা দিতে পারেন।
















