দেশের পেঁয়াজ চাষিদের সুরক্ষা দিতে ভারত থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া বন্ধ রেখেছে সরকার। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করেনি। আমদানিকারকদের আশঙ্কা, আমদানির পথ রুদ্ধ হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আবারও ৮০-৯০ টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে।
দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার মধ্যেই পেঁয়াজ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় ভারত থেকে নতুন করে এই নিত্যপণ্যটির আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। আমদানিকারকদের দাবি, আমদানির অনুমতি বন্ধ হওয়ার খবরে ইতোমধ্যেই বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং ভারত থেকে আমদানি পুরোপুরি বন্ধ থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের আবারও চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর এই বন্দর দিয়ে ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে ৬টি চালানে ১৩টি ট্রাকে মাত্র ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে এসেছে। এরপর থেকে গত দুই সপ্তাহ ধরে বেনাপোল দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারকরা নতুন করে অনুমতির জন্য আবেদন করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো সাড়া মিলছে না।
বেনাপোল স্থলবন্দরের অন্যতম পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল জানান, দেশে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হলে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। এতে তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর থেকে আবারও আমদানি শুরু হয় এবং দাম ৩৫-৪০ টাকার মধ্যে নেমে আসে। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে আমদানির অনুমতি না পাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ সকাল থেকে আমরা আমদানির অনুমতির জন্য আবেদন করেও কোনো মঞ্জুরি পাইনি। যদিও অফিসিয়ালি কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানতে পেরেছি আপাতত নতুন কোনো আইপি ইস্যু করা হচ্ছে না। এই খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় বন্দরেই প্রতি কেজিতে দাম ১০ টাকার মতো বেড়ে গেছে।”
এদিকে বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে নতুন কোনো পেঁয়াজের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে যাদের কাছে আগের ইস্যু করা আমদানির অনুমতি বা আইপি রয়েছে, তারা চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন।” মূলত দেশি পেঁয়াজের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার প্রাক্কালে স্থানীয় চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই সরকার আমদানির ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমদানিকারকদের আশঙ্কা, যদি ৩০ জানুয়ারির পর আমদানির মেয়াদ আর না বাড়ানো হয় এবং নতুন করে আইপি দেওয়া না হয়, তবে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আবারও ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও অনেক কম ছিল। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার অজুহাতে মজুদদাররা আবারও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
















