পাঁচ দশকের বেশি সময় পর আবারও মানুষ নিয়ে চাঁদের পথে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। সংস্থাটির আর্টেমিস কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ আর্টেমিস II–এর উৎক্ষেপণ হতে পারে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিশনটির সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ জানালা শুরু হচ্ছে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে, যা বসন্তকাল পর্যন্ত খোলা থাকবে। নাসা চায়, এপ্রিলের শেষের আগেই রকেটটি উৎক্ষেপণ করতে।
চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট, ক্রু বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুল এবং গ্রাউন্ড সিস্টেমের সব শেষ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকেই উৎক্ষেপণ করা হবে এই মিশন।
প্রায় ১০ দিনব্যাপী আর্টেমিস–২ মিশনে চারজন নভোচারী অংশ নিচ্ছেন। নাসার পক্ষ থেকে আছেন কমান্ডার রিড উইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কক। তাদের সঙ্গে থাকছেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
এই মিশনের মাধ্যমে প্রথমবার মানুষ নিয়ে উড়বে এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযান। পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছানোর পর ক্রুরা হাতে-কলমে ওরিয়নের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করবেন, ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য মহাকাশযান পরিচালনার মহড়া দেবেন। এরপর তারা চাঁদের অনেক পেছনের এক বিন্দু পর্যন্ত যাবে, যেখানে জীবনধারণ ব্যবস্থা, শক্তি, নেভিগেশন ও প্রপালশন সিস্টেম যাচাই করা হবে।
নভোচারীরা মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে ছোট একটি কেবিনে কাজ করবেন এবং নিজেরাই হবেন চিকিৎসা গবেষণার অংশ, গভীর মহাকাশ থেকে তথ্য ও ছবি পাঠাবেন। এ সময় বিকিরণের মাত্রা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের চেয়ে বেশি হলেও তা নিরাপদ সীমার মধ্যেই থাকবে বলে জানিয়েছে নাসা।
মিশন শেষে ওরিয়ন ক্যাপসুল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। তবে আর্টেমিস–২ এ চাঁদে নামার কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি মূলত ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতি।
নাসার লক্ষ্য, আর্টেমিস–৩ মিশনের মাধ্যমে আবার মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে নামানো। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই উৎক্ষেপণ ২০২৭ সালের আগে নয়, যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে বাস্তবসম্মত সময় ২০২৮। তখন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে চাঁদের কক্ষপথে গেটওয়ে নামে একটি ছোট স্পেস স্টেশন গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
সর্বশেষ মানুষ চাঁদে গিয়েছিল ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে, অ্যাপোলো–১৭ মিশনের মাধ্যমে। আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে নাসা এবার শুধু যাওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির লক্ষ্যেই চাঁদের দিকে ফিরছে।
















