মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াকফিউ টাউনশিপে ধানিয়াওয়াদি নৌঘাঁটি ও পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৩২-এ একযোগে ড্রোন ও ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় সেনাসদস্য হতাহত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক ব্যারাক ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, রাখাইন উপকূলে অবস্থিত সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি ধানিয়াওয়াদিতে আরাকান আর্মির ছোড়া গোলাবর্ষণে ব্যারাক নম্বর ১৬ থেকে ২০ এবং একটি সমাবেশ হল আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে বেশ কয়েকজন সেনা আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ডরমিটরিতে এবং একটি বিস্ফোরণ সম্মেলন কক্ষে আঘাত হানে। হামলার পর এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং হতাহতের খবর ছড়িয়ে পড়ে।
জানুয়ারি ৬ তারিখে আহতদের চিকিৎসার জন্য নৌবাহিনীর একটি জাহাজে করে ধানিয়াওয়াদি নৌঘাঁটি থেকে কিয়াকফিউতে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের পরবর্তীতে আকাশপথে ইয়াঙ্গুনের মিংগালারডন সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
একই সময়ে আরাকান আর্মির গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৩২-ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ব্যাটালিয়নের কয়েকটি ডরমিটরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তারা জানায়, ড্রোন ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে দিনরাত তীব্র গোলাগুলি চলতে থাকে।
আরাকান আর্মি কিয়াকফিউ শহরের উপকণ্ঠ ও থিত পোক তাউং এলাকায় পুলিশের টহল ইউনিট লক্ষ্য করে গেরিলা কৌশলে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং তারা ড্রোন, ভারী অস্ত্র ও নৌ সহায়তার ওপর নির্ভর করে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে।
এক সামরিক বিশ্লেষণে সিডিএম ক্যাপ্টেন জিন ইয়াও মন্তব্য করেন, কিয়াকফিউতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন জরুরি, যাতে আরাকান আর্মি ওই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। তিনি বলেন, শহরের বাইরে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে এবং সামনের সারির অবস্থান ধীরে ধীরে শহরের দিকে সরে আসছে। তাঁর মতে, আরাকান আর্মির আগুনশক্তির ব্যবহার তাদের কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
















