বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে চরমপন্থীদের হাতে সংখ্যালঘু ও তাদের বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বারবার হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা ভিন্ন কারণে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে হামলাকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, এ ধরনের বিষয় আগেও একাধিকবার তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তত ৫১টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
ভারত স্মরণ করিয়ে দেয়, গত মাসে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছিল যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলসহ দুই হাজার ৯০০টির বেশি সহিংস ঘটনার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনাকে মিডিয়ার অতিরঞ্জন বা রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও তখন মন্তব্য করা হয়েছিল।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতা ওসমান হাদীকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলি করে হত্যার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। তাঁর মৃত্যুর পর ঢাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয় এবং ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ চালায়।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একাধিক ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক হিন্দু নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। একই দিনে শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তি হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। ডিসেম্বরে কালীমোহর ইউনিয়নে অমৃত মণ্ডল নামে আরেক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা ও তাঁর মরদেহের সঙ্গে নৃশংস আচরণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ভারত বলেছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতার বিষয়টি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, তারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
















