আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিয়ে নির্বাচন বিশ্লেষকদের শঙ্কা
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে ভোটার সংখ্যার বিশাল তারতম্য রয়ে গেছে যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীমের মতে, ভোটার সংখ্যার এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে যে ধরনের বিশেষায়িত কারিগরি কাজ প্রয়োজন ছিল, তা সময় স্বল্পতার কারণে পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৮ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন, অথচ ঢাকা-১৯ আসনে এই সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন), যা গাজীপুর-৪ আসনের (৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন) দ্বিগুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, একটি দেশের নির্বাচনী আসনগুলোর মধ্যে ভোটার সংখ্যার পার্থক্য সাধারণত ১০-১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়, কিন্তু বাংলাদেশে এই পার্থক্য ক্ষেত্রবিশেষে কয়েক গুণ।
নির্বাচন কমিশন সীমানা নির্ধারণে ৩০০ আসনের জাতীয় গড় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ জন ধরার চেষ্টা করলেও ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধার দোহাই দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত আসন বিন্যাসে দেখা যায়, ২৩৭টি আসনে ৫ লাখের কম ভোটার থাকলেও বাকি ৬৩টি আসনে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। আব্দুল আলীম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভোটার অনুপাতে নির্বাচনী ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ইসি থেকে পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া নারী ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান কমলেও ভোটার তালিকার ‘পোস্ট-ইলেকশন অডিট’ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। আগামী নির্বাচনে যেন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সীমানা আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবিও জানান এই বিশেষজ্ঞ।
















