আদালতের পরবর্তী শুনানির আগেই ভোররাতে অভিযান, উত্তেজনা ও সংঘর্ষ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঐতিহাসিক ফাইজি ইলাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনের উদ্দেশ্য ও সময় নির্বাচন ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকার রামলীলা ময়দানে অবস্থিত ফাইজি ইলাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালায় পৌর কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ও মসজিদকে কেন্দ্র করেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’-এর নিয়মিত কার্যক্রম।
মসজিদ কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, যে জমিতে অভিযান চালানো হয়েছে তা ওয়াকফ বোর্ড-এর মালিকানাধীন এবং ১৯৪০ সাল থেকে বৈধ ইজারার আওতায় রয়েছে। অভিযানের প্রতিবাদ জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে; পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযান শেষ হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট মসজিদ সংলগ্ন প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটি পিটিশন দাখিল করে। মঙ্গলবার সেই পিটিশনের শুনানিতে হাইকোর্ট পৌর কর্তৃপক্ষ, নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও ওয়াকফ বোর্ডকে চার সপ্তাহ সময় দিয়ে ২২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। আদালতের পরবর্তী শুনানির আগেই বুধবার ভোরে অভিযান হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একটি অংশের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বুলডোজার জাস্টিস’ নামে সংখ্যালঘু সম্পত্তি লক্ষ্য করে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন রাজ্যে। অন্যদিকে সমর্থকদের বক্তব্য, প্রশাসন আইনি আদেশ বাস্তবায়ন করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ধর্মীয় স্থাপনা, সম্পত্তির অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
















