ইসলামাবাদে দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানের বৈঠক; রাডার প্রযুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণেও মিলবে সহযোগিতা
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় পাকিস্তানের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইসলামাবাদ সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকির সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যুদ্ধবিমান ক্রয় ছাড়াও প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আকাশ নজরদারি রাডার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মতো কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
আপডেটঃ দুপুর ৩.২১ পিএম
মঙ্গলবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জেএফ-১৭ থান্ডার: কেন আগ্রহী বাংলাদেশ?

পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি) ও চীনের চেংডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জেএফ-১৭ একটি ‘মাল্টি-রোল’ যুদ্ধবিমান।
- অল ওয়েদার অপারেশন: এটি দিন-রাত এবং যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম।
- বহুমুখী সক্ষমতা: আকাশ থেকে আকাশে লড়াই, ভূমিতে বোমাবর্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী: ওজনে হালকা হওয়ায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলক কম থাকায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে এটি বেশ কার্যকর।
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
বৈঠকে বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন পাকিস্তানের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির প্রশংসা করেন। আলোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল: ১. প্রশিক্ষণ ও কোর্স: বাংলাদেশি পাইলটদের জন্য বুনিয়াদি থেকে উন্নত উড্ডয়ন এবং বিশেষায়িত কোর্সের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দেবে পাকিস্তান। ২. রক্ষণাবেক্ষণ: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বহরের যুদ্ধবিমানগুলোর আয়ুষ্কাল বাড়ানো এবং রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে ইসলামাবাদ। ৩. এয়ার ডিফেন্স রাডার: আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে অত্যাধুনিক রাডার একীভূতকরণ এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি
সফরকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রোডাকশন ইউনিট পরিদর্শন করে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় পাকিস্তান ও চীন থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ করা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক। একই সঙ্গে এটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘ফোর্স গোল ২০৩০’ অর্জনে সহায়ক হবে।
ইসলামাবাদে হাসান মাহমুদ খাঁনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে তাঁকে বর্ণাঢ্য ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
















