ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনার পর ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে এ প্রতিক্রিয়া জানায় কোপেনহেগেন।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাঁর ভাষায়, ডেনিশ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দেশের কোনোটিই দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
এর আগে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিরক্ষার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।
ফ্রেডেরিকসেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই একটি ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ এবং এমন একটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে, যারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের মন্তব্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা বলেছেন।
গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে দ্বীপটির জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি দ্বীপটির খনিজ সম্পদও ওয়াশিংটনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
এদিকে ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে দেখানো একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে লেখা ছিল ‘শিগগিরই’। বিষয়টিকে অসম্মানজনক আখ্যা দেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতীকী ইঙ্গিতের মাধ্যমে নয়।
তবে নিলসেন একই সঙ্গে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, দেশটির ভবিষ্যৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক হবে না।
ডেনমার্কের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত জেসপার মোলার সোরেনসেনও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রত্যাশা করে তার দেশ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ক বড় বিনিয়োগ করেছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তাঁর মতে, উভয় দেশ মিত্র হিসেবেই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা উচিত।
















