সিডিআর ট্র্যাকিংয়ে সুনির্দিষ্ট বাসা শনাক্ত অসম্ভব; জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ‘ফেক আইডি’র অপব্যবহার
চাঞ্চল্যকর শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফয়সালের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘মোবাইল লোকেশন’ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব বলে অভিহিত করেছেন ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, অভিযুক্তের অবস্থান ডিওএইচএস (DOHS) এলাকার একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের বাসভবনে পাওয়া গেছে। তবে টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশলীরা বলছেন, প্রচলিত কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) প্রযুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ভবনের নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট শনাক্ত করা বৈজ্ঞানিকভাবেই অসম্ভব। জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর অবিশ্বাস তৈরি করতে এটি একটি পরিকল্পিত গুজব বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
হাদি হত্যা মামলার তদন্ত যখন একটি স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে, তখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এই গুজব তদন্ত প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত বাস্তবতা: সিডিআর কেন পিনপয়েন্ট করতে পারে না?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল ট্র্যাকিং মূলত সেল টাওয়ার বা বিটিএস (BTS)-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর সীমাবদ্ধতাগুলো হলো:
- কাভারেজ এরিয়া: ঢাকা বা ডিওএইচএস-এর মতো এলাকায় একটি টাওয়ারের সিগন্যাল ৩০০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এই বৃত্তের ভেতরে শত শত বহুতল ভবন এবং হাজার হাজার ফ্ল্যাট থাকে।
- জিপিএস-এর অনুপস্থিতি: সিডিআর ডেটায় কোনো জিপিএস (GPS) কোঅর্ডিনেট থাকে না; এটি কেবল ‘লোকেশন এরিয়া কোড’ প্রদান করে। ফলে একজন ব্যক্তি ওই টাওয়ারের সীমানার ‘কোথাও’ আছেন তা বোঝা গেলেও, তিনি কার বাসায় আছেন তা বলা অসম্ভব।
- সিগন্যাল ওভারল্যাপিং: শহরাঞ্চলে উঁচু ভবনের কারণে সিগন্যাল প্রতিফলিত হয়। অনেক সময় ব্যবহারকারী এক ভবনে থাকলেও ফোনটি পাশের অন্য কোনো টাওয়ারের সাথে সংযুক্ত হতে পারে।
গুজব ও ‘ফেক আইডি’র উৎস
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাংবাদিক ইলিয়াাস হোসাইনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ‘ভুয়া’ ফেসবুক পেজ থেকে এই বিতর্কিত তথ্যটি প্রথম ছড়ানো হয়। এটি ইলিয়াস হোসাইনের ভেরিফাইড অফিশিয়াল পেজ নয়। স্পর্শকাতর এই মামলায় সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জড়িয়ে এ ধরণের খবর প্রচারের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীলতার ছক?
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করছে। ফ্যাক্ট-চেকিং ছাড়াই এসব গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করা এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে তার সত্যতা ও কারিগরি যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি।
















