‘নতুন বছরে জোরদার হোক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব’: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ড. ইউনূসের
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি নতুন বছরকে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সূচনালগ্ন হিসেবে অভিহিত করেন।
২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের যে প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্ত করেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন বছরে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ কতটুকু গতি পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে ২০২৬ সাল হবে জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবর্তনের এক বছর।
নির্বাচন ও গণভোটের রূপরেখা
মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর শুভেচ্ছা বাণীতে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি।” তিনি বিশ্বাস করেন, সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বছরে সকল চ্যালেঞ্জ একসাথে মোকাবিলা করে আমরা একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব। নতুনের এই আগমনী বার্তা আমাদের সব গ্লানি ভুলে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য নবোদ্যম ও অনুপ্রেরণা জোগায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সবাই যেন দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করে, সেটিই হবে নতুন বছরের মূল লক্ষ্য। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
















