বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের গণমাধ্যমগুলো কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকেই নয়, বরং এমন একজন নেত্রীকে স্মরণ করছে যিনি আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র সত্তা বজায় রাখতে আজীবন লড়ে গেছেন।
জলপাইগুড়ির ‘শান্তি’ থেকে বাংলাদেশের ‘আপসহীন’ নেত্রী: নরসিমা রাওকে দেওয়া কড়া জবাবের স্মৃতি ফেরাল ‘ইন্ডিয়া টুডে’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে এখন তার বর্ণাঢ্য ও আপসহীন রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় উঠে আসছে। বিশেষ করে দিল্লির ‘আধিপত্যবাদী’ নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর দেওয়া তার কড়া জবাবের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ বেগম খালেদা জিয়াকে একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে, যিনি আজীবন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি।
নরসিমা রাওকে সেই ঐতিহাসিক জবাব
পুনম পান্ডের লেখা ‘ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ডোমেস্টিক পলিটিক্স’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হলেও ভারত সফরে গিয়েছিলেন মাত্র দুইবার। ১৯৯২ সালে তার প্রথম দিল্লি সফরের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও অভিযোগ করেছিলেন যে, অনেক বাংলাদেশি ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
তৎক্ষণাৎ খালেদা জিয়া এর প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া জবাব দেন। তিনি বলেছিলেন, “ভারতে বিপুল সংখ্যক বাঙালি বাস করেন যারা বাংলা বোঝেন এবং বাংলায় কথা বলেন— যার অর্থ এই নয় যে তারা সবাই বাংলাদেশি।” তার এই সরাসরি ও সাহসী অবস্থান তৎকালীন কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
জলপাইগুড়ির ‘শান্তি’ থেকে ‘পুতুল’
বিএনপির তথ্য বাতায়ন ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়ির নয়াবস্তিতে বেগম জিয়ার জন্ম। শৈশবে তার নাম রাখা হয়েছিল ‘শান্তি’, পরে যা মেজো বোনের দেওয়া ‘পুতুল’ নামে রূপ নেয়। দেশভাগের পর তার পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ী হয়। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে তাদের আদি নিবাস হলেও খালেদা জিয়ার বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা জীবন কাটে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে।
রাজনীতিতে আসা ও সংগ্রাম
১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলেজে পড়ার সময় তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। আশির দশকে স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে নেমে আসেন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
















