বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই শোকবার্তাগুলো তার তিন দশকের রাজনৈতিক প্রভাব ও সফল কূটনৈতিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
ঢাকা থেকে লন্ডন—শোকে মুহ্যমান বিশ্ব রাজনীতি: আধুনিক বাংলাদেশ গড়া ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি
ঢাকা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী দেশগুলো একযোগে এই নেত্রীর মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছে। বিশ্বনেতারা তাকে বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের রূপকার এবং গণতন্ত্রের এক আপসহীন প্রতীক হিসেবে স্মরণ করছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তার প্রয়াণে দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: শ্রদ্ধায় স্মরণ
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক শোকবার্তায় বলেছে, “বেগম জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।” অন্যদিকে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তাকে ‘চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত অংশীদারিত্বের ভিত্তি মজবুত হয়েছিল।
ভারত ও পাকিস্তানের সমবেদনা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়নে ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” ২০১৫ সালে ঢাকার উষ্ণ সাক্ষাতের স্মৃতিও চারণ করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বেগম জিয়াকে ‘পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
ইউরোপ ও জাপানের শ্রদ্ধা
যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পৃথক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। জাপান ও জার্মানির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক দূরদর্শিতার প্রশংসা করা হয়েছে। জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুইবার জাপান সফর করে তিনি দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করেছিলেন।” জার্মানি ২০০৪ ও ২০১১ সালের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্মৃতি স্মরণ করে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
প্রয়াণের নেপথ্যে
লিভার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। চলতি বছরের শুরুর দিকে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই জননন্দিত নেত্রী।
















