জাতীয় নাগরিক পার্টিতে নারী নেতৃত্বের এই গণ-অসন্তোষ তৃণমূল পর্যায়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় নেত্রীদের পদত্যাগ ও নিষ্ক্রিয়তা আসন সমঝোতার সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে দলটিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
আদর্শিক সংকটে জাতীয় নাগরিক পার্টি: তাসনিম জারার স্বতন্ত্র লড়াই, নুসরাত তাবাসসুমসহ চারজনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা ও ১০-দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে বড় ধরনের ভাঙন ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দলের অন্তত ছয়জন প্রভাবশালী নারী নেত্রী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছেন। তাদের মধ্যে দুজন দল ছেড়েছেন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একইভাবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনও পদত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে তাসনিম জারার চ্যালেঞ্জ
ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করলেও দলের জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেন ডা. তাসনিম জারা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর গত ৪৮ ঘণ্টায় সংগ্রহ করে সোমবার শেষ দিনে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাসনিম জারা জানান, রাজনৈতিক সততার জায়গা থেকেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।
‘প্রবঞ্চনার শিকার’ দাবি করে নিষ্ক্রিয় নুসরাত তাবাসসুম
কুষ্টিয়া-১ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া এনসিপির অন্যতম আলোচিত নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম দলের এই কৌশলগত পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করেছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “১০-দলীয় জোট ঘোষণার মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করা হয়েছে।” তিনি নিজেকে আপাতত দলের সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করেছেন।
নির্বাচন বর্জনের হিড়িক
জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়াকে ‘নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে এনসিপির আরও চার নারী নেত্রী ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন:
- মনিরা শারমিন (নওগাঁ-৫): দলত্যাগ না করলেও ৩শ আসনে একক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
- মনজিলা ঝুমা (খাগড়াছড়ি): দক্ষিণাঞ্চলের এই সংগঠক নির্বাচন না করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন।
- সামান্তা শারমিন (জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক): জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সমালোচনা করে তিনি এই জোটে থেকে নির্বাচন করা কিংবা কোনো আর্থিক সহায়তা নেওয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিশ্লেষকদের চোখে আদর্শিক দূরত্ব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এ বিষয়ে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের এই শক্তির এভাবে বিভাজিত হওয়াটা দুঃখজনক। এনসিপি নিজেদের মধ্যমপন্থী দাবি করলেও তাদের আদর্শিক ভিত্তি এখনো অস্পষ্ট।” জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতা অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে ফাটল ধরাচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে।
















