শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন এখন তুঙ্গে। শাহবাগ অবরোধের পাশাপাশি অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে এই লড়াইকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন আয়োজকরা। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে দেশব্যাপী অনলাইন প্রচারের ডাক: শাহবাগ অবরোধ থেকে চার দফা দাবি ও ঘাতকদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে ‘স্যালুটিং আওয়ার কালচারাল হিরো’ শিরোনামে নতুন অনলাইন প্রচার কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার রাতে শাহবাগের টানা চতুর্থ দিনের অবরোধ কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, কালচারাল আইকন শহীদ ওসমান হাদিকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রামাণ্যচিত্র, আবৃত্তি ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচার করা হবে। আগামী নির্বাচনের ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে।
শাহবাগে উত্তেজনা ও অস্ত্রসহ যুবক আটক
সোমবার শাহবাগের কর্মসূচি চলাকালে রাত পৌনে আটটার দিকে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ আটক করেন ইনকিলাব মঞ্চের স্বেচ্ছাসেবকেরা। আটক আরাফাত জামান (৩৯) নামে ওই ব্যক্তিকে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছে থাকা অস্ত্রটি ছিল একটি খেলনা পিস্তল। তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা একে ‘জনগণকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চার দফা দাবি ও পরবর্তী লড়াই
শাহবাগের তীব্র শীত উপেক্ষা করে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা চারটি মূল দাবি তুলে ধরেছেন: ১. শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার। ২. বাংলাদেশে থাকা ভারতীয়দের কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল। ৩. আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। ৪. ওসমান হাদিকে ‘সংস্কৃতিক বীর’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
আবদুল্লাহ আল জাবের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে ইনসাফের লড়াই থামানো যাবে না। কালকের পর আমরা চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামব।’ শাহবাগ ছাড়াও রাজধানীর উত্তরার বিএনএস টাওয়ারের সামনে একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টন এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলে জানা গেছে, তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
















