ডেল্টা আউট লুক | ৮ অক্টোবর ২০২৫
পাকিস্তান বলছে, ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে তাদের হাতে থাকা চীনা যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, মে মাসের চার দিনের সংঘর্ষে এসব অস্ত্র ব্যবহারে তারা ভারতীয় বিমানবাহিনীর একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর–এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমরা সব ধরনের প্রযুক্তির জন্য উন্মুক্ত। তবে সাম্প্রতিক চীনা প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষভাবে ভালো পারফর্ম করেছে।”
তিনি আরও বলেন,
পাকিস্তানের সামরিক কৌশল সবসময়ই “সবচেয়ে কার্যকর, দক্ষ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর” জোর দেয়।
প্রথমবার বাস্তব যুদ্ধে চীনা অস্ত্রের ব্যবহার
গত মে মাসের সংঘাতে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো চীনা জে–১০সি যুদ্ধবিমান এবং পিএল–১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহার করে।

পাকিস্তানের দাবি, এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই তারা ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
আইএসপিআর বলছে, “পাকিস্তান কখনও তথ্য বা পরিসংখ্যান নিয়ে খেলা করে না।”
চৌধুরীর ভাষায়,
“এই সংঘাতে পাকিস্তানের কোনো বিমান হারায়নি।”
ভারতের পাল্টা দাবি
ভারত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান বলেছেন, সংঘাতের সময় পাকিস্তানের কমপক্ষে এক ডজন বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে ভারত সাতটি বিমান হারানোর কথা অস্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় মন্তব্য করেছিলেন, সংঘাতের সময়
“ভারতের বেশ কয়েকটি বিমান ভূপাতিত হয়েছে।”
অন্যদিকে, ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পাকিস্তান ও ভারতের এই সংঘাতই ছিল জে–১০সি যুদ্ধবিমান এবং পিএল–১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বাস্তব যুদ্ধপ্রয়োগ।

পাকিস্তানের উপ–প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার প্রথম এই অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করেন। প্রাথমিকভাবে চীন মন্তব্য না করলেও পরে চীনা বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন।
পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের বিমানবাহিনী আধুনিকীকরণে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
জে–১০সি যুদ্ধবিমানকে “ভারতের রাফাল জেটের পাল্টা জবাব” হিসেবে বিবেচনা করে ইসলামাবাদ।
চীন–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এশিয়ার আঞ্চলিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
















