ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ আর কিছু সহজ অভ্যাসেই সম্ভব স্বাস্থ্যকর জীবন
৮ অক্টোবর ২০২৫ | ডেল্টা আউট লুক
দীর্ঘদিন সুস্থ শরীর ধরে রাখতে ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই— বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পাঁচটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে মানসিক চাপ কমে, শরীর থাকে শক্তিশালী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
ধ্যান ও মনোযোগ
হার্ভার্ডের গবেষণা অনুযায়ী, ধ্যান ও মনঃসংযোগ মানসিক চাপ কমায়, মনোযোগ বাড়ায় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর ফলে মস্তিষ্ক ও হৃদ্পিণ্ড সুস্থ থাকে।
দীর্ঘ সময় ধ্যান না করলেও ছোট ছোট অভ্যাস যেমন—মনোযোগ দিয়ে হাঁটা, প্রকৃতি দেখা, কিংবা ফোন ছাড়া ধীরে খাওয়া—এসবই সাহায্য করে।
স্ট্রেস বেড়ে গেলে ‘বক্স ব্রিদিং’ কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন, যা ছন্দের সঙ্গে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে শরীরকে প্রশান্ত রাখে।
ভালো ঘুম
হার্ভার্ডের মতে, প্রতিদিন গড়ে সাত ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এটি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।

প্রতিদিন গড়ে সাত ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
তবে নয় ঘণ্টার বেশি ঘুম শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা ও ঘুমের মান ঠিক রাখা জরুরি।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত সুষম খাবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল, শাকসবজি, ডাল, বীজ ও গোটা শস্যজাতীয় খাবারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একই সঙ্গে কমাতে হবে প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও কৃত্রিম ফ্লেভার। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া এই মনোভাবই দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার মূল।
হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা
যতটা সম্ভব বসে থাকা সময় কমাতে হবে, কারণ দীর্ঘ সময় বসে থাকা রক্তনালি ও বিপাকতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

ব্যায়াম মানেই জিম নয়। হার্ভার্ড বলছে, নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, বাগান করা, খেলাধুলা বা নাচ—সবই কার্যকর শরীরচর্চা।
দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা
বায়ুদূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও রাসায়নিক পদার্থ শরীরের জন্য নীরব বিপদ।
হার্ভার্ড পরামর্শ দিয়েছে
- ফিল্টার করা পানি পান করা,
- প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার,
- রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা,
- এবং ঘরে-বাইরে গাছ লাগানো।
এসব অভ্যাস পুরোপুরি দূষণ ঠেকাতে না পারলেও শরীরের ক্ষতি অনেকাংশে কমাতে পারে।
















